ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট আজ নাগরপুরে পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ আত্রাইয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ চিরিরবন্দরে সন্ধ্যা নামলেই মাদকের বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ

কর ব্যবস্থার করুণ চিত্র

  • থিম বিক্রয়
  • আপডেট সময় ০৪:৫২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত কর সংস্কার টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা একাধারে উদ্বেগজনক এবং সংস্কারের জন্য দিকনির্দেশনামূলক।

প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খণ্ডিত বা কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ দিয়ে রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়; বরং একটি ‘সামগ্রিক ও কাঠামোগত সংস্কার’ এখন সময়ের দাবি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন, যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে : প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়ানো, বাণিজ্য করের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভ্যাট ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা। বর্তমানে আমাদের দেশে পরোক্ষ করের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ায়। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ করের বর্তমান ৭০:৩০ অনুপাতকে ৫০:৫০-এ উন্নীত করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত যৌক্তিক। সরাসরি কর বা আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পেলে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাণিজ্য করের ক্ষেত্রে উচ্চ ট্যারিফ এবং প্যারা-ট্যারিফ মূলত আমাদের রপ্তানি খাতকে বৈচিত্র্যহীন করে তুলছে। তাই বাণিজ্য করের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদের (যেমন, আয়কর ও সম্পত্তি কর) দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ভ্যাট ব্যবস্থার জটিলতা দূর করে একক হার প্রবর্তন এবং কর অব্যাহতি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে রাজস্ব আহরণে গতি আসবে। তবে এই সংস্কারের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কর ব্যবস্থা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এবং করদাতাদের হয়রানি বাড়ায়। আমরা মনে করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় কর প্রদান ব্যবস্থা চালু করা গেলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া করপোরেট করের হার কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ভুলে গেলে চলবে না, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫-২০ শতাংশে উন্নীত করা কেবল স্বপ্ন নয়, বরং একটি অপরিহার্য। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই। কর ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে আগ্রাসী অডিট বন্ধ করে একটি ব্যবসাবান্ধব ও জনবান্ধব করনীতি প্রণয়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট আজ

কর ব্যবস্থার করুণ চিত্র

আপডেট সময় ০৪:৫২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত কর সংস্কার টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা একাধারে উদ্বেগজনক এবং সংস্কারের জন্য দিকনির্দেশনামূলক।

প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খণ্ডিত বা কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ দিয়ে রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়; বরং একটি ‘সামগ্রিক ও কাঠামোগত সংস্কার’ এখন সময়ের দাবি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন, যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে : প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়ানো, বাণিজ্য করের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভ্যাট ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা। বর্তমানে আমাদের দেশে পরোক্ষ করের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ায়। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ করের বর্তমান ৭০:৩০ অনুপাতকে ৫০:৫০-এ উন্নীত করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত যৌক্তিক। সরাসরি কর বা আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পেলে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাণিজ্য করের ক্ষেত্রে উচ্চ ট্যারিফ এবং প্যারা-ট্যারিফ মূলত আমাদের রপ্তানি খাতকে বৈচিত্র্যহীন করে তুলছে। তাই বাণিজ্য করের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদের (যেমন, আয়কর ও সম্পত্তি কর) দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ভ্যাট ব্যবস্থার জটিলতা দূর করে একক হার প্রবর্তন এবং কর অব্যাহতি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে রাজস্ব আহরণে গতি আসবে। তবে এই সংস্কারের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কর ব্যবস্থা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এবং করদাতাদের হয়রানি বাড়ায়। আমরা মনে করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় কর প্রদান ব্যবস্থা চালু করা গেলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া করপোরেট করের হার কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ভুলে গেলে চলবে না, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫-২০ শতাংশে উন্নীত করা কেবল স্বপ্ন নয়, বরং একটি অপরিহার্য। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই। কর ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে আগ্রাসী অডিট বন্ধ করে একটি ব্যবসাবান্ধব ও জনবান্ধব করনীতি প্রণয়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।