ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নাগরপুরে পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ আত্রাইয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ চিরিরবন্দরে সন্ধ্যা নামলেই মাদকের বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ নিটোল-নিলয় গ্রুপে চমত্কার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ; সাথে থাকছে নিশ্চিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট!

ভাসমান কৃষিতে ঝুঁকছেন নবীনগরের চাষিরা

  • থিম বিক্রয়
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে প্রথমবারের মতো ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের বাঁশবাজার, সলিমগঞ্জ, নবীনগর পূর্ব ও সাতমোড়া এলাকায় প্রায় ৩ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হাওরবেষ্টিত নবীনগরের প্রায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি বছরের ৫ থেকে ৬ মাস পানির নিচে থাকে। দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমিকে কাজে লাগাতেই ভাসমান কৃষি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। FREAP প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চারটি এলাকার পাঁচটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এ চাষ শুরু হয়।
এই পদ্ধতিতে মূলত বাঁশের মাচা তৈরি করে তার ওপর লাউ, চাল কুমড়া, শসা, করলা ও কলমি শাকের মতো লতাজাতীয় সবজি চাষ করা হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, সাধারণ চাষের তুলনায় এতে ফলন বেশি হচ্ছে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। ফলে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইব্রাহিমপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল মিয়া জানান, টেলিভিশনে ভাসমান চাষাবাদ দেখে আগ্রহ তৈরি হয়। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি এ উদ্যোগ নেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকার শসা, লাউ ও কলমি শাক বিক্রি করেছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় আশপাশের অনেক মানুষ তার খামার দেখতে আসছেন।
অন্যদিকে বগডহর গ্রামের কৃষক টিপু মুন্সী বলেন, বর্ষাকালে এই এলাকায় সবজি চাষ সম্ভব হবে, আগে তা কল্পনাও করা যেত না। এবার ২০ শতক জমিতে তিনি লাউ ও চাল কুমড়ার আবাদ করেছেন এবং ভালো ফলনের আশা করছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন নাঈম বলেন, পানিতে ডুবে থাকা জমিগুলোকে কাজে লাগাতে কমিউনিটি ভিত্তিক ভাসমান চাষাবাদ চালু করা হয়েছে। এতে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, নবীনগরে এই প্রথম ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় দুই শতাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রদর্শনী প্লট তৈরি, বীজ ও সার সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই চাষে মূল খরচ বাঁশের মাচা তৈরিতে হলেও পরে তেমন বাড়তি খরচ নেই। সেচের প্রয়োজন হয় না এবং পানিতে ডুবে থাকা জমিও কাজে লাগানো সম্ভব হয়। লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি নবীনগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাগরপুরে পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

ভাসমান কৃষিতে ঝুঁকছেন নবীনগরের চাষিরা

আপডেট সময় ০৩:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে প্রথমবারের মতো ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের বাঁশবাজার, সলিমগঞ্জ, নবীনগর পূর্ব ও সাতমোড়া এলাকায় প্রায় ৩ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হাওরবেষ্টিত নবীনগরের প্রায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি বছরের ৫ থেকে ৬ মাস পানির নিচে থাকে। দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমিকে কাজে লাগাতেই ভাসমান কৃষি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। FREAP প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চারটি এলাকার পাঁচটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এ চাষ শুরু হয়।
এই পদ্ধতিতে মূলত বাঁশের মাচা তৈরি করে তার ওপর লাউ, চাল কুমড়া, শসা, করলা ও কলমি শাকের মতো লতাজাতীয় সবজি চাষ করা হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, সাধারণ চাষের তুলনায় এতে ফলন বেশি হচ্ছে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। ফলে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইব্রাহিমপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল মিয়া জানান, টেলিভিশনে ভাসমান চাষাবাদ দেখে আগ্রহ তৈরি হয়। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি এ উদ্যোগ নেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকার শসা, লাউ ও কলমি শাক বিক্রি করেছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় আশপাশের অনেক মানুষ তার খামার দেখতে আসছেন।
অন্যদিকে বগডহর গ্রামের কৃষক টিপু মুন্সী বলেন, বর্ষাকালে এই এলাকায় সবজি চাষ সম্ভব হবে, আগে তা কল্পনাও করা যেত না। এবার ২০ শতক জমিতে তিনি লাউ ও চাল কুমড়ার আবাদ করেছেন এবং ভালো ফলনের আশা করছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন নাঈম বলেন, পানিতে ডুবে থাকা জমিগুলোকে কাজে লাগাতে কমিউনিটি ভিত্তিক ভাসমান চাষাবাদ চালু করা হয়েছে। এতে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, নবীনগরে এই প্রথম ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় দুই শতাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রদর্শনী প্লট তৈরি, বীজ ও সার সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই চাষে মূল খরচ বাঁশের মাচা তৈরিতে হলেও পরে তেমন বাড়তি খরচ নেই। সেচের প্রয়োজন হয় না এবং পানিতে ডুবে থাকা জমিও কাজে লাগানো সম্ভব হয়। লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি নবীনগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।